সব গল্পের শেষ সুন্দর হয় না ।

ভালোবাসা-সম্পর্ক-শুভ পরিণয়, কিন্তু তারপর ? যেদিক থেকে কাঁচকে স্বচ্ছ লাগে, ঠিক তার উল্টো দিকেই থাকে লাল প্রলেপ।

Sayan Mistri
10 Dec, 2020 • 1 min read min read • bn
❤️ 0 💬 0 👁 1639
সব গল্পের শেষ সুন্দর হয় না ।

- "ঠিক করে ভেবে দেখুন, আপনি কিন্তু স্বীকার করে নিচ্ছেন..."

- "হ্যাঁ আমি স্বীকার করছি, খুন আমিই করেছি। সম্পূর্ণ সজ্ঞানে সুপরিকল্পিত ভাবে সেদিন রাতে খুনটা আমিই করেছি।"

- জজসাহেবের অসম্পূর্ণ কথার রেশ টেনে একদমে কথা গুলো বলে গেল অর্কদীপ রায় ।


"অর্কদীপ রায়" , বয়স বছর ঊনত্রিশেক হবে, বালিগঞ্জের কাছে গোলপার্কে পৈতৃক পুরানো বাড়িতে থাকেন, সিটি কলেজের ইংরেজির তরুণ অধ্যাপক, ভালো সেতার বাজান, কলকাতা থিয়েটারেও বেশ পরিচিত মুখ। কিন্তু এসবের পাশেও, তার আরও একটি পরিচয় আছে,

 - তিনি আমার গল্পের নায়কও বটে। 

কিন্তু সমস্যা হলো আমার নায়ক এক খলনায়কোচিত কাজ করে চৈত্রের এই ভ্যাপসা গরমে নিজের এ.সি. স্টাফ রুম ছেড়ে কলকাতা হাইকোর্টের এই বিচার ঘরের ৫ বাই ৫ সাইজের আসামী বক্সে দাঁড়িয়ে আছেন। 


কেন ??? 

- আচ্ছা বেশ, চলুন তবে দেখি ---

এই যে অর্কের এতগুলো গুণের কথা বললাম, তার মধ্যে আরেকটি হলো, " ও বেশ ভালো প্রেমিকও কিন্তু ।"

 সেই কলেজের নবীণবরণের দিন থেকে শুরু করে ও লাবণ্যকে নিয়ে নয় নয় করে দশটা বসন্ত কাটিয়ে দিয়েছে।

তারপর....?

তারপর আর পাঁচটা লাভ স্টোরির মতো চাকরির পর বিয়ে, হানিমুন সবই হলো । সমস্যার শুরু বিয়ের একবছর পর।


 এক শীতের সন্ধ্যায়, অর্ক লাবণ্যকে নিয়ে যায় বেহালায় কলিগ সুমন্তের অ্যানিভার্সারিতে । 


সেখানেই লাবণ্যের আলাপ হয় শহ‍রের উঠতি তরুণ ব্যাবসায়ী রাজশেখর দত্তের সঙ্গে। 

হ্যাঁ, মানছি আমার নায়িকা আর পাঁচটা নায়িকার মতো অপরূপা সুন্দরী নন, তবে তার সারল্য আর মায়াবী চোখের চাহনিতে কত উঠতি যুবকের রাতের ঘুম নষ্ট হয়েছে, তার ইয়ত্তা নেই। --- অপরদিকে রাজশেখরের রাজকীয় ব্যাক্তিত্ব , গলার গম্ভীর স্বর, স্বল্পভাষী মিষ্টি ব্যবহার, আর চোখের কোণার ঐ জ্বলজ্বলে লাল তিলটা, 

- নাহ, লাবণ্য কেন, যে কোনো মহিলার পক্ষেই নিজেকে আটকানো বেশ কষ্টকর ব্যাপার ।

 আর কেবল লাবণ্য নয় , ব্যাক্তিত্বের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে প্রথম সাক্ষাৎএ অর্ক নিজেই রাজশেখরকে দুম করে ডিনারের আমন্ত্রণ করে বসলেন।

 

- তিনি এলেনও । দিন তিনেক পর এক মৃদু বর্ষামুখর সন্ধ্যায় তিনি এলেন। সঙ্গে একগুচ্ছ লাল হলুদ গোলাপ, রেড ওয়াইন আর সম্পর্ক ভাঙ্গার এক কালো ইঙ্গিত।  

সন্ধ্যাটা, লাবণ্যের হাতের রান্না, কান্ট্রি মিউজিক, অর্কের সেতারে জমেওছিল ভালো। শুধু রাজশেখর সেদিন কোনো ভাবেই লাবণ্যের কালো শাড়ি ও টিপ পরিহিত শরীরটা থেকে চোখদুটোকে ফেরাতে পারছিল না। আর তাতে যোগ্য সঙ্গতও দিচ্ছিল লাবণ্যের প্রশয়।


  ব্যাস্। এভাবেই সূত্রপাত শহরের আরও একটা বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের, যাকে আমাদের নাগরিক সমাজ "অ"বৈধ" ট্যাগ লাগিয়ে খুব সাবধানে এড়িয়ে চলে। 

তারপর ??? তারপর আর কি ...?

 - তারপর সেই অবৈধ সম্পর্ক ক্রমেই হয়ে ওঠে অপবিত্র, অশালীন এবং "অ"নিয়ন্ত্রিত," যার সাক্ষী থেকে যায় শহরের মধ্যদুপুরের কত পার্ক, লেক, ক্যাফেটেরিয়া বা সিনেমাহল ।

 

--- কিন্তু ওহে বঙ্গসমাজ, তুমি কি করে জানবে, নিষিদ্ধতাতেই যে কৌতুহলের বাস । পৃথিবীর সমস্ত রহস্য-রোমাঞ্চতো ঐ নিষিদ্ধতার নিগূঢ় আঁধারেই লুকিয়ে থাকে। 

- হ্যাঁ, সেই রোমাঞ্চ তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগও করেছিল রাজশেখর আর লাবণ্য । 


 অপরাধবোধেও লাবণ্য ভুগত , কিন্তু নায়ক যে আমার বড়ই সাদাসিধে লোক, নইলে এই মাল্টিপ্লেক্সের যুগে এখনো কেউ থিয়েটারে পড়ে থাকে !!!

  বিয়ের পরপরই লাবণ্য বুঝেছিল,আসলে ভালোবাসার জন্য অর্ক যেন বড্ড বেশিই নিখুঁত।

 ওরকম লোককে শ্রদ্ধা করা যায়, কিন্তু বিয়েটা বাড়াবাড়ি হয়ে যায়। তাই আর পিছু ফেরা হয়নি লাবণ্যের , ভাসিয়ে দিয়েছিল ও নিজেকে কোনো অজানা পরিণতির উদ্দেশ্যে । 


 সন্দেহটা হয় লাবণ্যের পার্সে রাজশেখরের অফিসের ভিজিটিং কার্ড দেখে ।

অর্ক সরাসরি লাবণ্যকে জিঙ্গাসা করতেই লাবণ্য আমতা আমতা করে এড়িয়ে যায় ।

ঐ যে বললাম না যেখানেই নিষিদ্ধতার গন্ধ সেখানেই কৌতুহলের ভিড়। 

   সন্দেহটা আরও দৃঢ় হলো, রাতের ঘুম উড়লো, কলেজের জন্য বেড়িয়েও নিজের সবথেকে চেনা প্রিয় বিশ্বস্ত মানুষটার পিছুও নিতে হলো।

  ওদের দুজনকে সেদিন ওভাবে দেখে দাবানলের সদ্য জ্বলে ওঠা আগুনের মতো অর্কর বুকটাও জ্বলে উঠেছিল। এ অনুভূতির সাথে হয়তো অনেক পাঠকই সুপরিচিত। মেনে নিয়ে ফিরে এসেছিল ।


 একদম চুপ মেরে যাওয়া অর্ক আরও কিছু দিন কাটালো অবিশ্বাসের ভিতের ওপর আর মিথ্যে সম্পর্কের ছাদের তলায়। কেমন যেন নিজের মধ্যে নিজেকে গোটাতে শুরু করলো অর্ক । গোটা কয়েক বন্ধু যা বা ছিল তাদের সাথেও যোগাযোগ কমলো । লাবণ্য ছাড়া সাতকুলে কেউ ছিল কিনা তা ও নিজেও জানতো না। 

 দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া অর্কও একদিন রাতের অন্ধকারে ছাদে গিয়ে চেঁচিয়ে উঠে জানতে চেয়েছিল কেন ওর সাথেই হলো, সেদিন আকাশটাও যেন চুপ করে ওর ছেলেমানুষী দেখে মুচকি হাসছিল। খুব রাগ হয়েছিল অর্কর। 

  

পরেরদিন কলেজ না গিয়ে ও ঢুকলো এক বারে, সারাটাদিন গলা অবধি মদ গিলে রাতে শহরের হলুদ ল্যাম্পপোস্টের আলোয় ও ঘরে ফিরল । 


  ঘুমিয়ে পড়েছিল লাবণ্য। নীল নাইট বাল্বের আলোয় ঘর উদ্ভাসিত। আর সেই মোহময়ী নীল আলোয় আরও লালিত্য ঠিকরে বেরোচ্ছিল লাবণ্যের শরীর থেকে। কিন্তু আজ অর্ক দৃঢ়প্রতিজ্ঞ‌।

 

 ব্যাগের চেনটা খুলে ও বের করে আনলো নিউ মার্কেটের দোকান থেকে কেনা ভারী ইস্পাতের অস্ত্রটা, মাঝারি সাইজ, একদিকে কুমিরের দাঁতের মতো খাঁজকাটা, অসাধারণ জিনিস। প্রথম দেখাতেই পছন্দ হয়েছিল অর্কর। এইরকমটাই তো সে খুঁজছিল।

 রীতিমতো ইন্টারনেট ঘেঁটে অর্কর মনে হয়েছিল হাতের কাছে পাওয়া উপায় গুলোর মধ্যে এটাই সবথেকে "পেইনলেস।" ঘুমের মধ্যে আচমকা গলার নলির ওপর দিয়ে একবার চালিয়ে দিলেই .........


 --- কাঁপা কাঁপা হাতে দিয়েওছিল অর্ক চালিয়ে । । হাত পায়ের আঙুলগুলো পাকিয়ে বারবার বিছানায় ছুঁড়ছিল লাবণ্য। যেন আত্মসমর্পণের সুযোগ না দেওয়ায় অর্কর প্রতি রাগের মিথ্যে আস্ফালন । শরীরটা বার কয়েক মুচড়ে ছটফটিয়ে উঠে শান্ত হয়ে গেছিল । "ক্যাডাভেরিক স্পাসম্"।

 বেশ ভয় পেয়েছিল অর্ক । জীবনে প্রথমবার মৃত্যু দেখেছিল অর্ক । এতটাও প্রস্তুতি ওর ছিল না । সারাটা রাত লাবণ্যের নিথর দেহটা কোলে নিয়ে বসেছিল ও । সকালে নিজেই পুলিশে ফোন করে খবর দেয় । খুনটা রাগের মাথায় করলেও অর্ক জানতো মিথ্যে বলা, অস্বীকার করা, অ্যালিবাই তৈরী, ইন্টেরোগেশন, ট্রায়ালের পর ট্রায়াল এসব ওর দ্বারা সম্ভব না ।

 

 আর সবথেকে বড়ো কথা কার থেকে পালাবে ও ? 

"ভালোবাসার কাছে হেরেছে, এবার কি নিজের বিবেকের কাছে হারতো ?"


....... ধুর আর পাঁচটা গড়পড়তা গল্পের মতোই হয়ে যাচ্ছে, শেষ করতে হবে এবার.... 

 

 কোর্টেই ফিরছি ... 


"এতোই যদি ভালোবাসতেন তবে মারলেন কেন ?" --- জজসাহেবের অতর্কিত প্রশ্নে হুঁশ ফিরল অর্কর।


" ভালোবাসতাম বলেই , কষ্ট হতো ওকে মিথ্যে বলতে দেখে , জানেন ঠিক করে গুছিয়ে মিথ্যেটাও বলতে পারতো না, আমি সবটাই বুঝতাম কিন্তু ও আমাকে ঠিক করে বোঝাতে পারতো না, হাসিও পেত, কষ্টও হতো।"

কিছুক্ষণ দম নিয়ে থেমে থেমে অর্ক আবার বলতে শুরু করলো, " জানেন, আমি বুঝতে পারতাম, সারাক্ষণ ওর মধ্যে এক মানসিক দ্ধন্দ চলছে। ও যেন এক কঠিন দোটানায় পড়ে গেছে, আমার থেকে কেমন যেন পালিয়ে পালিয়ে বেড়াত।

 আমি জানতাম ও চাইলেও এখান থেকে আর বেরোতে পারবে না, ওর দিকে তাকাতেও কেমন অপরাধী মনে হতো নিজেকে।


এর থেকে ওর মুক্তি দরকার ছিল, নইলে যে ও দগ্ধে দগ্ধে মরতো, তাই....." - শেষ করতে পারলো না অর্ক ।


তারপর উপরের দিকে শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে উঠল, 

" জজসাহেব, আপনার সাথে না হলে আপনিও বুঝবেন না ।"


----- কথাটা শুনেই বুকটা ছ্যাঁৎ করে উঠল মধ্যবয়স্ক জজসাহেবের। কাল রাতে তার স্ত্রী তাকে ফোন করে জানিয়ে দিয়েছিল, 

রাত্রে সে যাদবপুরে মায়ের কাছে থেকে যাবে।


 অথচ সকালে ফোন করে তিনি জানতে পারেন, রাত্রে তার স্ত্রী শ্বাশুড়ীর কাছে যাননি।


 আর হ্যাঁ, ওরকম একটা অচেনা লোকের ভিজিটিং কার্ড তিনিও তার স্ত্রীর ব্যাগে পেয়েছিলেন।


  


""""""জজসাহেব সব বোঝেন"""""""""

-----------------------------------------------------------------------

 


  


  অস্বীকার আপনি করতে পারবেন না, একটু চোখ কান বন্ধ খোলা রাখলে , শহরের এ প্রান্ত ও প্রান্তে এমন সম্পর্ক আপনি অনেক দেখেছেন।

    আর পরদিন সকালে এরকমই লাবণ্যদের মৃত্যু সংবাদও পেপারে পড়েছেন। 


  হ্যাঁ, এরকম সম্পর্কগুলোই তছনছ করে দেয় এরকম অনেক অর্ক-লাবণ্যের জীবন বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরবর্তী প্রজন্মের ভবিষ্যতকেও।


  আপনি বলতেই পারেন তুমি ভাই চোখ কান বন্ধ রেখে চললেই পারো । 

... কিন্তু দাদা, সেটাই কি সমস্যার সমাধান ?


 তা ঠিক, দোষটা তো আমারই, আমি দেখে ফেলেছি যে। কিন্তু বলছি, আমি চোখ কান বন্ধ রাখলে মেয়ে টা বেঁচে যেত তো ! 

ছেলেটাও ছাড়া পেয়ে যেত নিশ্চয় !!! 

 

সুতরাং, এটা বড়ো কথা নয়, ... যে আমি কি করছি, বরং সমস্যার সমাধানে আপনি কতটা এগিয়ে এলেন সেটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ । 

 


অতি সামান্য মানুষ আমি, সমস্যাটুকুই তুলে ধরতে পারলাম,  


...... সমাধান ??? 


... সেটা আপনার ওপরই ছেড়ে দিলাম ।

0 likes
☕

Support Sayan Mistri

Appreciate this story? Send a small tip to encourage the author to write more great work!

Please login to tip the author.

Sayan Mistri
Published By

Sayan Mistri

@sayanmistri

Comments

Appreciate the author by telling what you feel about the post 💓

Please Login or Create a free account to comment.

★ Recommended For You

Stories tailored to your recent reading preferences

More stories in Crime
wayne travel log • 31 Dec, 2025 • 1 min read min

The goth gouls of horror

fun gothic tale of horror

315 0
More stories in Crime
Subhashree Banik • 03 Nov, 2025 • 9 mins read min

For the contest 'Disasters don't discriminate but humanity unites'

Hard times teach people a lot and they continue to guide us throughout the life. It's a story of transformation and how disaster changed the perspective of people altogether.

313 1
More stories in Crime
fazal Esaf • 18 Jun, 2025 • 1 min read min

कहानी का शीर्षक: "मिट्टी के साथी"

"मिट्टी और मनुष्य" एक मार्मिक कहानी है जो शहरी जीवन की भागदौड़ और प्रकृति से अलगाव के बीच, मिट्टी और उसके सबसे छोटे जीवों — केंचुओं — के महत्व को दर्शाती है। कहानी फ़ज़ल एसाफ नाम के एक युवा, संस्कारी किसान के बेटे के इर्द-गिर्द घूमती है, जो अपनी गाँव की मिट्टी और उसके अनदेखे नायकों के प्रति गहरी समझ रखता है। कहानी की शुरुआत ठाणे के एक छोटे से कस्बे में बारिश के बाद की सुबह से होती है, जहाँ फ़ज़ल सड़क पर रेंगते केंचुओं को देखकर विचलित हो जाता है, क्योंकि लोग उन्हें बिना सोचे-समझे कुचल रहे हैं। वह एक केंचुए को उठाकर सुरक्षित स्थान पर रखता है और मन ही मन बुदबुदाता है कि लोग इस "कीड़े" की अहमियत नहीं समझते, जबकि यही उनकी "रोटियों" से जुड़ा है। आगे चलकर, फ़ज़ल का सामना तीन अलग-अलग राहगीरों से होता है: एक तेज़-तर्रार कॉर्पोरेट महिला, अदिति मैडम; एक अनुभवी बुज़ुर्ग, शास्त्री जी; और एक नन्हा लड़का, आर्यन। सबसे पहले, अदिति मैडम अनजाने में एक केंचुए को कुचल देती हैं। फ़ज़ल उन्हें रोकता है और विनम्रता से समझाता है कि यह "कीड़ा" नहीं, बल्कि "किसान का दोस्त" है जो मिट्टी को साँस देता है और ज़मीन को उपजाऊ बनाता है। अदिति शुरुआत में झिझकती हैं, लेकिन फ़ज़ल के शब्दों में छिपी सच्चाई उन्हें सोचने पर मजबूर कर देती है। इसके बाद, शास्त्री जी फ़ज़ल की बात का समर्थन करते हैं और अपने पुराने दिनों को याद करते हैं जब केंचुए को खेत में देखना अच्छी फसल का संकेत माना जाता था। वे आधुनिक समाज में मिट्टी से बढ़ती दूरी पर चिंता व्यक्त करते हैं। फ़ज़ल उन्हें समझाता है कि लोग मिट्टी को गंदगी समझते हैं, जबकि वही "गंदगी" उनकी थाली में गेहूं बनकर आती है, और केंचुए ही बिना किसी स्वार्थ के ज़मीन को जोतते हैं। कहानी में एक मार्मिक मोड़ तब आता है जब आर्यन, एक छोटा लड़का, केंचुए को "साँप जैसा कुछ" समझता है। फ़ज़ल धैर्य से उसे बताता है कि यह एक अर्थवर्म है जो मिट्टी को अंदर से जोतता है, हवा, पानी और बीज को पनपने में मदद करता है। वह आर्यन को समझाता है कि वह जो सब्ज़ियाँ खाता है, वे कहीं न कहीं केंचुए के कारण ही उगती हैं, जिससे आर्यन केंचुए को अपना दोस्त समझने लगता है। आर्यन की माँ भी इस छोटे लेकिन गहरे सबक के लिए फ़ज़ल को धन्यवाद देती हैं। एक छोटी सभा में, फ़ज़ल अदिति, शास्त्री जी और आर्यन को संबोधित करते हुए कहते हैं कि भले ही वे शहर में रहते हों और वह गाँव से हो, लेकिन "मिट्टी" ही वह धागा है जो उन सबको जोड़ता है। वह शहरी लोगों से मिट्टी के प्रति संवेदना रखने और छोटे जीवों को बचाने की अपील करता है। शास्त्री जी भावुक होकर कहते हैं कि जो समाज ज़मीन से रिश्ता तोड़ता है, वह रिश्तों की अहमियत भी भूल जाता है। कहानी का चरमोत्कर्ष तब आता है जब फ़ज़ल अपने झोले से एक मुट्ठी मिट्टी उठाता है जिसमें एक केंचुआ रेंग रहा होता है। वह भावनात्मक स्वर में समझाता है कि यह मिट्टी केवल मिट्टी नहीं, बल्कि "जीवन" है, जिसमें "मेहनत" और "उम्मीद" है। वह चेतावनी देता है कि जिस दिन केंचुए कम हुए, उस दिन रोटी भी महंगी हो जाएगी, मिट्टी बंजर हो जाएगी, और दिल भी। यह सुनकर आर्यन अब हर केंचुए को ध्यान से देखता है और वादा करता है कि वह उन्हें कुचलेगा नहीं। कहानी एक शक्तिशाली मोनोलॉग के साथ समाप्त होती है, जिसमें फ़ज़ल की आवाज़ बताती है कि शहर भले ही चमकता हो, लेकिन उसकी नींव वही मिट्टी है जो गाँवों में साँस लेती है। वह जोर देता है कि अगर हम मिट्टी को मारते रहेंगे, तो हम भी धीरे-धीरे मरेंगे, "बिना आवाज़ के, बिना मिट्टी के।" अंतिम पंक्तियाँ एक काव्यात्मक संदेश देती हैं: "जो रेंगता है ज़मीन पर, वो थामे है आसमान को। न कुचलिए उसे, क्योंकि वो पालता है हमें… चुपचाप।" संदेश: यह पटकथा एक सरल लेकिन गहन संदेश देती है: "ज़मीन पर चलिए, मगर ज़मीन को समझकर चलिए। क्योंकि वहीं से जीवन उगता है।" यह कहानी हमें प्रकृति के सबसे छोटे सदस्यों के महत्व को पहचानने और उसके साथ हमारे संबंध को फिर से स्थापित करने के लिए प्रेरित करती है।

364 0
More stories in Crime
fazal Esaf • 02 Jun, 2025 • 1 min read min

गांव और इंसाफ़

यह कहानी पंडित रामलाल और उनकी पत्नी सीता देवी की है, जो एक ऐसे गाँव में रहते हैं जहाँ हिंदू और मुस्लिम समुदाय सदियों से शांति और सौहार्द से रह रहे थे। एक दिन, देश के किसी दूसरे हिस्से में हुए एक आतंकवादी हमले के बाद, गाँव का माहौल बिगड़ जाता है। कुछ कट्टरपंथी ग्रामीण गुस्से में आकर गाँव के मुस्लिम परिवारों को धमकाने लगते हैं और उन्हें अपने घर खाली करने का आदेश देते हैं, उन पर आतंकवादी होने का आरोप लगाते हैं। गाँव के मुस्लिम परिवारों में से एक, सलमा बेगम और उनके परिवार को विशेष रूप से निशाना बनाया जाता है। जब भीड़ उन्हें उनके घर से निकालने की कोशिश करती है, तो पंडित रामलाल और सीता देवी उनके बचाव में आगे आते हैं। पंडित रामलाल भीड़ से सवाल करते हैं कि क्या किसी एक व्यक्ति के गलत काम के लिए पूरे समुदाय को दोषी ठहराना सही है। वह तर्क देते हैं कि अगर ऐसा होता है, तो हिंदुओं द्वारा किए गए बुरे कामों के लिए पूरे हिंदू समुदाय को भी दोषी ठहराया जाना चाहिए। उनकी पत्नी, सीता देवी, भी अपनी बात रखती हैं और सलमा बेगम के गाँव के प्रति योगदान और मदद को याद दिलाती हैं। वे दोनों स्पष्ट करते हैं कि आतंकवाद का कोई धर्म नहीं होता; आतंकवादी सिर्फ़ मानवता के दुश्मन होते हैं। वे गाँव वालों को समझाते हैं कि उन्हें आपस में नफ़रत फैलाने के बजाय ऐसे बुरे लोगों का मिलकर विरोध करना चाहिए। पंडित रामलाल और सीता देवी की बुद्धिमान और दृढ़ बातों का गाँव के लोगों पर गहरा असर होता है। उन्हें अपनी गलती का एहसास होता है और भीड़ शांत हो जाती है। इस घटना से गाँव वालों को यह महत्वपूर्ण सबक मिलता है कि किसी एक व्यक्ति के कृत्य के लिए पूरे समुदाय को दोषी ठहराना अन्याय है और धर्म के नाम पर नफ़रत फैलाना गलत है। यह कहानी सच्ची इंसानियत, समझदारी और मुश्किल समय में एक-दूसरे का साथ देने के महत्व को दर्शाती है।

461 0